আন্তর্জাতিক রাজপরিবারের কঠোর বিধিনিষেধ ও অলিখিত রীতিনীতির মধ্যেও নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন প্রিন্সেস ডায়ানা। তার আচার-আচরণ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাকে ইতিহাসের পাতায় সুপরিচিত করে তোলে। যদিও রাজকীয় জীবন ছিল নানা বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ, তবুও তিনি সেই কাঠামোর ভেতর থেকেই বারবার নিজের পছন্দ ও বিবেচনার পথ বেছে নিয়েছেন।
বিশাল কোনো সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বরং দৈনন্দিন ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই তিনি নিজের মতামত প্রকাশ করে গেছেন। আবেগপ্রবণতা লুকানো নাকি প্রকাশ করা, সন্তানদের লালন-পালনের পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিথস্ক্রিয়া—এমন প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের অনুভূতি ও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তৎকালীন সময়ে এই সিদ্ধান্তগুলোকে হয়তো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে নাও হতে পারে, কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঐ ছোট ছোট পদক্ষেপই ধীরে ধীরে রাজপরিবারের প্রতি জনমনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।
প্রিন্সেস ডায়ানা ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ফ্রান্সের প্যারিসে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তবে তার জীবনযাপন ও অলিখিত নিয়ম ভাঙার সংগ্রামই তাকে আজও বিশ্বের মানুষের মনে জীবন্ত করে রেখেছে।