রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মন্ডলকে গুলি করে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল পত্তনদারকে (৪৫) ১২ বছর পর নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মৃত্যুদণ্ড এড়াতে দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করেও শেষ পর্যন্ত র‍্যাবের হাতে ধরা পড়তে হয়েছে তাকে।

২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গোয়ালন্দঘাট থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার শেষে গত ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই সাজা এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে র‍্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল র‍্যাব-৬ এর সহযোগিতায় গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল সদর থানার কালিয়া রোডের ভবানীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে জামাল পত্তনদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া এলাকার হোসেন পত্তনদারের ছেলে।

মৃত্যুদণ্ড এড়াতে জামাল দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করেন। ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ভারতের মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিআইইউ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস ভারতীয় কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আনুমানিক দুই মাস আগে কৌশলে পুশব্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। বাংলাদেশে ফেরার পর র‍্যাব তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে। স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, জামাল পুনরায় ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’-এ জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর আবারও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে নড়াইলের ভবানীপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জামাল পত্তনদারের কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জামাল পত্তনদারকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব আরও জানায়, রিপন মন্ডল হত্যা মামলা ছাড়াও জামাল পত্তনদার দুটি অস্ত্র, দুটি মাদক, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং একটি চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।