পাপুয়া নিউগিনির ঘন জঙ্গল থেকে আবিষ্কৃত একটি অবিষধর সাপের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড গানস এন রোজেসের গিটারবাদক সল হাডসনের পরিচিত নাম স্ল্যাশের সম্মানে। শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষক দলটি এই প্রজাতির নামকরণ করেছেন লেইল্যাফিস স্ল্যাশি।
২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস অস্টিন নিউগিনিতে রাতের বেলা মাঠপর্যায়ের গবেষণা চলাকালীন প্রথম এই সাপটির দেখা পান। পরবর্তীতে ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষক তিয়ানকি হুয়াং ও সারা রুয়ানেসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা জিনগত বিশ্লেষণ, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশগত মডেলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।
নামকরণের পেছনে রয়েছে এক ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা। গবেষণার প্রধান সারা রুয়ানে শৈশব থেকেই গানস এন রোজেসের ভক্ত। মাত্র ১২ বছর বয়সে রেপটাইলস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে পোষা অজগর সাপ হাতে স্ল্যাশের ছবি দেখে তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তীতে ওই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে স্ল্যাশ শৈশবে সাপ খোঁজা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতি তার আগ্রহের কথা জানান। সেই শৈশবের ভালোবাসা থেকেই গবেষক সারা রুয়ানে যখন নিউগিনিতে নতুন সাপটি খুঁজে পান, তখন এর নামকরণের জন্য স্ল্যাশকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন। স্ল্যাশ ১৯৯৪ সালে স্ল্যাশেস স্নেকপিট নামে একটি রক ব্যান্ডও গড়ে তোলেন, যা সাপের সাথে তার দীর্ঘদিনের যোগসূত্রকে তুলে ধরে। নিজের নামে নতুন সাপের প্রজাতি আবিষ্কারের এই সম্মান পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বয়ং স্ল্যাশ।
লম্বায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি বা ৭১ সেন্টিমিটার বিশিষ্ট এই সাপটির রঙ লালচে-বাদামি। এটি সম্পূর্ণ অবিষধর এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। নিশাচর প্রকৃতির এই সাপ সাধারণত সন্ধ্যার পর বড় গাছের গোড়ার কাছে খাবার খুঁজতে বের হয়। মুখের পেছনের দিকে অবস্থিত বড় দাঁত দিয়ে এরা মূলত ছোট টিকটিকি বা সরীসৃপের ডিম শিকার করে।
গবেষকদের মতে, কফি চাষ ও খনি নির্মাণের কারণে নিউগিনির ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে এই অনন্য প্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে রয়েছে। যার অস্তিত্বই জানা নেই, তাকে রক্ষা করা সম্ভব নয়; তাই নতুন প্রজাতি আবিষ্কার ও সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। গবেষণার পুরো বিবরণ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জুট্যাক্সায় প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া