চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে জালিয়াতি ও ভুয়া নথিপত্র উপস্থাপনের মামলায় আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন। একই সাথে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারক এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংস্থার আইনজীবী রেজাউল করিম রনি।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় কলা ও মানবিদ্যা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পাওয়ার লক্ষ্যে আসামিরা যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। দরপত্রের শর্ত পূরণ না থাকলেও সাজানো কাগজপত্র, অভিজ্ঞতার ভুয়া সনদ এবং নিবোধন সংক্রান্ত অসত্য তথ্য ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে বলা হয়, জি কে শামীম ও তার সহযোগীরা প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে দরপদ্ধতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এই কাজ বাগিয়ে নেন।
দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (মূল্যবান জামানত জালিয়াতি), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল দলিল খাঁটি হিসেবে ব্যবহার) এবং ১০৯ (অপরাধে সহায়তা) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এসব ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের আইনজীবী মো. রেজাউল করিম রনি জানান, নথি অনুযায়ী জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। মামলাটিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার চেষ্টা করা হবে।