শীতের প্রাক্কালে সময়ের নিস্তব্ধতা ও স্মৃতির জটিলতা নিয়ে লেখা হয়েছে হানযালা হানের নতুন কবিতা ‘পেন্ডুলাম’। শরৎ শেষ হয়ে শীতের আভাস ফিরলেও ঘরের নিস্তব্ধতা এবং পুরনো স্মৃতিগুলোকে কেন্দ্র করে এই রচনাটি পাঠকের মনে গভীর প্রশ্ন তৈরি করে। কবিতায় একটি নিঃস্ব ঘর, ভাঙা ছবির ফ্রেম, ধুলোমাখা জানলা এবং যুদ্ধে হারানো এক পা—এমনকি পেন্ডুলামের দোলন—সব মিলিয়ে মানবিক বেদনা ও সময়ের অপরিহার্য পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
“আপেলের দিন যায়, সফেদ শয্যায় শোয়া পেন্ডুলাম—দোলা ভুলে দেখে সাগু বার্লি পথ্য, পুরাতন ক্যালেন্ডার ঝুলছে রংচটা দেয়ালে, টিক টিক টিক টিক ডাকে টিকটিকি একাকী, হাসছে শিশুটা—বাঁধানো ছবি—ভাঙা ফ্রেম—বাঁকা, উত্তরে হাওয়া—শীতের আভাস—শরৎ শেষ;কাচ-টবে পানি উবে গাছ-ডাল-পাতা মরা, জানলা—ধুলো পড়া—বন্ধ, আধখোলা দরজা স্থির;শীতের আগের বৃষ্টি, কাঁথাটা টেনে দেয় না, মেঝে ধুলো পড়া পুরু, কোনো পদছাপ নেই, এক পা হারাল যুদ্ধে, স্মৃতিরা দলছুট মেঘ, আলো আসে, অন্ধকার আসে, সময় পাল্টায়;”
কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে শীতের ঠান্ডা বাতাস এবং মানসিক একাকীত্বের সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। ‘এক পা হারাল যুদ্ধে’ উক্তিটি ইঙ্গিত দেয় সামাজিক সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সম্পর্কে। অন্যদিকে, ‘স্মৃতিরা দলছুট মেঘ’ এবং ‘সময় পাল্টায়’—এই শেষ দুটি লাইন পাঠককে সময়ের চক্রব্যূহ ও স্মৃতির অস্থিরতার কথা চিন্তা করতে বাধ্য করে। মুক্তকণ্ঠের অন্যান্য বিভাগে সাহিত্য ও কবিতার এই নতুন সঞ্চারণ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।