ফেনী সদর হাসপাতালে সাপে কাটা এক নারীর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, জরুরি ওষুধ না পেয়ে এবং মেঝেতে শুইয়ে রাখার কারণে বিষক্রিয়ায় ভর্তির আধা ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত নাসিমা আক্তার (৪৫) ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে ঘরের দরজা খোলার সময় অন্ধকারে বিষধর সাপ তাঁকে কামড় দেয়। প্রথমে বিষের গুরুত্ব না বুঝলেও কিছুক্ষণের মধ্যে শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়লে ছটফট করতে শুরু করেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রোগীর স্বামী আহমদ করিম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার সাপে কাটার লক্ষণগুলো যাচাই না করেই রোগীকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ডিউটি ডাক্তারের কাছে সাপে কামড়ের বিষয়টি বারবার জানালেও রোগীকে সাপে কাটার ওষুধ দেওয়া হয়নি। অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও ডাক্তার তার কথায় কান দেননি। ওয়ার্ডে একজন নার্স ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। তিনি একটি বেডের জন্য ছোটাছুটি করেও তা পাননি। মেডিসিন বিভাগে নেওয়ার পর সেখানকার সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকার জুনিয়র নার্সদের দিয়ে কেবল একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে রোগীকে মেঝেতে শুইয়ে রাখেন। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে করতেই ভর্তির আধা ঘণ্টার মধ্যে নাসিমা মারা যান। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে অচেনা সাপের কামড়ে এক নারী হাসপাতালে এলে ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দেন, যা রেজিস্টারে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযুক্ত চিকিৎসক চিরঞ্জিত সরকার মুক্তকণ্ঠকে জানান, “রোগী আসার পর জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে আমি তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়ার্ডে ভর্তি দিয়েছি। বাকি চিকিৎসা ওয়ার্ডের চিকিৎসক দেখবেন, কিন্তু এখানে আমাকে এককভাবে দায়ী করা হচ্ছে। সাধারণত পর্যবেক্ষণের পরেই রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। আমার মনে হচ্ছে, সাপে কাটার পর রোগী অত্যাধিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”

ফেনী সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল মুক্তকণ্ঠকে জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় কারও কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসিমা আক্তার মারা যান। ওইদিন জুমার নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়।