ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর তদন্ত সংস্থা এখনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। প্রায় দুই বছর কাটলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান যেকোনো শর্তে তার জামিনের আবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শুরুতেই আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "তাঁর মক্কেল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে আছেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।" তিনি জানান, আইন অনুযায়ী তদন্ত এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। যৌক্তিক কারণে তা সম্ভব না হলে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানো যায়। এরপরও যদি প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়া হয়, তবে জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মক্কেল প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এ রকম যেকোনো শর্তে তৌফিক–ই–ইলাহীকে জামিন দিতে পারেন ট্রাইব্যুনাল।"
শর্ত সাপেক্ষে জামিনের প্রেক্ষাপটে আইনজীবী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিদেশ ভ্রমণ ও গণমাধ্যমে মতপ্রকাশ নিষিদ্ধ রেখে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ৮০ বছরের বেশি বয়সী আসামিদের তদন্তে সময় নিলেও তাদের শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়ার প্রচলন রয়েছে বলেও তিনি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন।
শুনানিতে সরকারি পক্ষ বা প্রসিকিউশন জানায়, তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে আসামি তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, "এর আগের জামিন শুনানিতে প্রসিকিউশন বলেছিল, এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এখন আবার সময় চাওয়া হয়েছে। আবার সময় না দিয়ে যা সিদ্ধান্ত দেওয়ার দিয়ে দেন।"
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন.