নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবারিয়া বাজারে রোববার সকালে তিনটি দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জায়গা দখল নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় মহলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, ওই তিনটি দোকানঘর নির্মিত জায়গাটি নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। আদালত ওই বিষয়ে ডিক্রি প্রদান করলেও কোন পক্ষের স্বার্থে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলের সংলগ্ন মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিনের সঙ্গে জায়গাটি নিয়ে বেলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির আইনি জটিলতা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, স্থানীয় কয়েকজন তরুণের নেতৃত্বে রোববার সকালে ওই হামলা চালানো হয়। তারা শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দোকানঘরগুলোতে ভাঙচুর চালায় এবং মালামাল লুটপাট করে। খবর পেয়ে মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহিন নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এএসআই শাহিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন তরুণ হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের মধ্যে মিলন ও মোজাম্মেল নামে দুই জনকে পরিচয় আমরা পেয়েছি। কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিল বলে আমরা জানতে পারি, তবে ওই মুহূর্তে উত্তেজনাকর পরিবেশ থাকায় আমরা শনাক্ত করতে পারিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ওই জায়গাটি দখল করতে তার ছেলেকে ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ভাঙা টিনে তার ছেলের পা কেটে গুরুতর আহত হয়েছে। পায়ে ১৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে এমন ঘটনায় জড়ানো সম্ভব নয়। সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য স্কুলে পাঠানো হয়, কোনো দখলদারি বা সংঘাতে ব্যবহারের জন্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বহিরাগত এক-দেড়শ মানুষ স্কুলে প্রবেশ করে স্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেখানে নিয়ে যায়। তারা সেখানের গিয়ে ভাঙচুর চালায়। তখন তিনি নিরুপায় ছিলেন। দোকানের মালামাল ভুক্তভোগীরা নিজেরা নিয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীরা লুটপাটে ছিল না। এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, টিনে নাকি অন্য কোনো কিছুর আঘাতে কেটেছে, এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ১৬টি সেলাইয়ের বিষয় আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে আমি প্রথমবার শুনলাম।
ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, বিলেন, মিলন, হিমেল, সুলতানসহ কয়েকজন স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করে তাদের দিয়ে এমন কাজ করিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, আদালতের রায় বাস্তবায়ন কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়টি মান্দা ও তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুই উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় কার পক্ষে ছিল, কাদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা কোথাকার বাসিন্দা এসব বিষয় নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।