গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে আহত হয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম আইয়ুব। তিনি জেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ের শহীদ আশিক হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় আইয়ুবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানা-পুলিশের একটি দল সন্ন্যাসী গ্রামে তার বাড়ি ঘেরাও করে। পুলিশ বাড়িতে উপস্থিত হলে আইয়ুব ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, বাড়ির পেছন দিকে নামার সময় তিনি টিনের বেড়ার ওপর পড়ে আহত হন। এতে তার পায়ের আঙুল কেটে যায় এবং হাড় ভেঙে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল আহমদ বলেন, "জুলাইয়ের শহীদ আশিক হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় আইয়ুবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। মামলা দুটি হলো জিআর-৩১৯/২৪ (কুড়িগ্রাম) ও জিআর-৩২১/২৪ (কুড়িগ্রাম)। তিনি এসব মামলার পলাতক আসামি।"
ওসি আরও জানান, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইয়ুবের নিজ বাড়িতে অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পুলিশ ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে তিনি ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আহত হন। তাকে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে আইয়ুবকে কুড়িগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।