রাজশাহী মহানগর ও পবা উপজেলার দুটি সারের বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। বুধবার দুপুরে মতিহার জোনের বিসিআইসির ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং কাটাখালী পৌর এলাকার ডিলার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করেন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। সেখানে পর্যাপ্ত সারের মজুত দেখতে পান তারা।

পরিদর্শন শেষে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, "রাজশাহীতে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা এখন কমেছে। এ ছাড়া আমন ধানের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জেলার গুদামগুলোতে বর্তমানে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত আছে। সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দও ডিলারদের দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুত বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শন দলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

সারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, "চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।"

তিনি আরও জানান, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, "কোনো পর্যায়েই যাতে কৃষকেরা হয়রানি বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন।"

সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ডিলারদের প্রতিদিনের উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির হিসাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কালোবাজারি ও অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।