গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় নদীতে গোসল করতে নেমে পঞ্চম শ্রেণির দুই শিশুশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপতা গ্রামের হাজিবাড়ি সংলগ্ন সূতিয়া নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত শিক্ষার্থীরা হলো বাপতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে মো. মোকতাসিন আলম (১১) এবং বেলদিয়া গ্রামের ভাটিপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে মাখমুদুল হাসান (১১)। তারা দুজনেই বাপতা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় তাদের অচেতন অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, সকালে বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হয়। এরপরই তারা দুই ছাত্রের দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
বাপতা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসিনুল করিম জানান, পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ৩৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার এই দুই শিক্ষার্থী সেদিন বিদ্যালয়ে আসেনি। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
মৃত শিক্ষার্থীদের সহপাঠী সাকিব হাসান জানায়, তারা ছয় বন্ধু মিলে বিদ্যালয়ের কাছেই সূতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। মাখমুদুল সাঁতার জানলেও মোকতাসিন সাঁতার জানত না। একপর্যায়ে মোকতাসিন গভীর পানিতে চলে গেলে প্রাণ বাঁচাতে মাখমুদুলকে জাপটে ধরে। এতে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরমান বলেন, “মোকতাসিন আলম ও মাখমুদুল হাসান একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের কাছে জানতে পেরেছি, তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। অন্য শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার পর তারা সবাই মিলে নদীতে গোসলে নামলে ওই দুজন দুর্ঘটনার শিকার হয়।”
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার জানান, বিদ্যালয়ের পাশের নদীতে সহপাঠীদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে ওই দুই শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।