চাঁদপুর শহরে পিন্টু দাস নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকাপয়সা আত্মসাৎ করে সপরিবার পালিয়ে গেছেন।
শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’ নামে পিন্টু দাসের একটি দোকান রয়েছে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কালীবাড়ি মন্দির এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর ফ্ল্যাট ও দোকান তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।
বুধবার বিকেলে পিন্টু দাসের ভাড়া ফ্ল্যাটে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। ভবনের মালিকের ছেলে রাসেল খান জানান, ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখে তারা প্রথমে ভেবেছিলেন পিন্টু দাস হয়তো কোথাও গেছেন। তবে গত দু-তিন দিনে কয়েকজন লোক এসে পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার পাওনা থাকার কথা জানান। পরে পুলিশও এ বিষয়ে খোঁজ নিতে এসেছিল। রাসেল খান আরও জানান, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে কোথায় গেছেন, তা তারা জানেন না এবং তাঁর ফোনও বন্ধ রয়েছে।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকাপয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। তবে তাঁর সপরিবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি।
আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় পিন্টু দাসের জুয়েলারি দোকানে গিয়ে সন্ধ্যায় শাটার লাগানো দেখা যায়। মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, খোঁজখবর নিয়ে তারা জেনেছেন পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় এবং শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়।
চাঁদপুর শহরের কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী মুক্তকণ্ঠকে জানান, পিন্টু দাস শহরের জোড়পুকুর পাড়, কালীবাড়ি মন্দির এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জুয়েলারির দোকান চালানোর পর সর্বশেষ আখন্দ মার্কেটে দোকান দেন। তিনি স্বর্ণালংকার বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রাখার পর সময়মতো তা ফেরত দিতে পারছিলেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নিয়েছিলেন। এসব ঘটনায় সালিসও হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এমন একটি সালিসে উপস্থিত ছিলেন। তবে পিন্টু দাসের নিখোঁজ বা সপরিবার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
স্থানীয় আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এক বছর আগে পিন্টু দাসের (তখন তাঁর দোকান ছিল জোড়পুকুর পাড়ে) কাছে শহরের নতুন বাজারের পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা মূল্যের কিছু স্বর্ণ বিক্রির জন্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পিন্টু টাকা দিতে নানা টালবাহানা করছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সালিস হয় এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে পিন্টু তিনটি চেকের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে ছয় লাখ টাকা দেবেন। ২০ আগস্টের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ১৯ আগস্ট রাতে তিনি ভাড়া বাসা থেকে মালামাল নিয়ে সপরিবার পালিয়ে যান বলে শোনা যাচ্ছে।
রাসেল খান নামের এক ব্যক্তি পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে তিনি ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু তাকে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। এর মধ্যেই পিন্টু দাসের সপরিবার নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছেন। স্বর্ণালংকার না পাওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় ভূষণ মজুমদার জানান, পিন্টু দাসের বিষয়ে তাঁদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে পরিষদের সদস্যসচিব অজিত সাহা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে মানুষের স্বর্ণ ও টাকাপয়সা আত্মসাতের অভিযোগ তাঁরাও শুনেছেন।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, পিন্টু দাসের নিখোঁজ বা আত্মগোপনের বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।