সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি কিংবা গুজব ছড়ানোর বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ডিলারদের কমিশন বাড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন। বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে তা বরদাশত করা হবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউন এবং বিসিআইসির বাফার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের সার প্রতিটি জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
সারের সার্বিক তদারকি ও ডিলারদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত এই কমিটিতে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজেও রয়েছেন। কমিটি ইতিমধ্যে বেশ কিছু বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ডিলার পরিবর্তন সংক্রান্ত গুজবের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সারা দেশে একটি গুজব ছড়িয়েছিল যে পুরোনো ডিলারদের সরিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে ডিলারদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ ও অব্যবসায়ী মনোভাব দেখা দিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী আমরা ইতোমধ্যে পরিপত্র জারি করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান মূল এবং খুচরা ডিলাররাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।"
তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, "যেসব ডিলার সারের ডিও (ডিলেভারি অর্ডার) করে উত্তোলন করেননি বা উত্তোলন করে গোডাউনে আটকে রেখে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন না, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, "বগুড়াসহ সারা দেশে চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের মজুত রয়েছে। বগুড়ায় সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু বিশেষ করে আলুচাষিরা আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করছেন। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের সার এখনই কিনতে শুরু করলে বাজারে একটা কৃত্রিম চাপ তৈরি হয় এবং সারের দামও বাড়ে।"
তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাহিদামাফিক সার জেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে, তাই কৃষকদের বাড়তি দামে আগেভাগে সার না কেনার অনুরোধ জানান।
ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৮-০৯ সালের পর কমিশন বাড়ানো হয়নি। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী এতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাহফুজ আলমসহ কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।