নিউইয়র্ক সিটিতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নগরের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।
গতকাল মঙ্গলবার মামদানি বলেন, তাঁর শহরে একটি আসন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী একটি গোষ্ঠীর নেতার অংশগ্রহণকে তিনি সমর্থন করেন না।
ওয়েবসাইটে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার ম্যানহাটানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
.মোহন ভাগবতের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আগেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তারা বলেছে, ‘আরএসএস কয়েক দশক ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণু কর্মকাণ্ডে জড়িত।’
.ইউএসসিআইআরএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আরএসএসের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করার অভিযোগ রয়েছে। মোহন ভাগবত সফরে এলে তাঁকে কোনো রকম কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা।.
সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আরএসএসের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করার অভিযোগ রয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ কমিশনের সদস্যরা মোহন ভাগবত সফরে এলে তাঁকে কোনো রকম কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছেন।
২৯ আগস্ট মোহন ভাগবতের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে তিনি রাখিবন্ধন উৎসবে অংশ নেবেন। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ‘আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ নামে একটি সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ভাগবত কানাডা ও ইংল্যান্ডে যাবেন।
.আরএসএস প্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে আপত্তি জানাল ইউএসসিআইআরএফ.অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না—মঙ্গলবার এমন প্রশ্ন করা হলে মামদানি বলেন, ‘আমি এ সমাবেশকে সমর্থন করি না। তবে কোনো বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার এখতিয়ার সিটি কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমি জানি না।’
এ প্রসঙ্গে নিজের পারিবারিক শিক্ষার কথা টেনে মামদানি আরও বলেন, ‘আমার পরিবার আমাকে ভারতের যে দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত করেছিল এবং যে আদর্শিক ধারণায় আমি বড় হয়েছি, তা ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র ভারত—যেখানে ভারতের প্রত্যেক মানুষই সমানভাবে দেশের অংশ বলে বিবেচিত হবেন। তাই এমন একটি (হিন্দুত্ববাদী) আন্দোলনের উত্থান দেখতে পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের, যার ভিত্তি হলো এমন একটি ধারণা, যা বর্জনীয়।’
.আমার পরিবার আমাকে ভারতের যে দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত করেছিল এবং যে আদর্শিক ধারণায় আমি বড় হয়েছি, তা ছিল একটি বহুত্ববাদী, ধর্মনিরপেক্ষ ভারত—যেখানে ভারতের প্রত্যেকেই সমানভাবে দেশের অংশ বলে বিবেচিত হবেন। তাই এমন একটি (হিন্দুত্ববাদী) আন্দোলনের উত্থান দেখতে পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের, যার ভিত্তি হলো এমন এক ধারণা, যা বর্জনীয়।জোহরান মামদানি, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র
ওয়েবসাইটে ২৯ আগস্টের আয়োজনকে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ বা ‘সর্বজনীন ঐক্য উদ্যাপন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে হিন্দু–মার্কিন সম্প্রদায় একত্র হবে।
আরএসএস থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি গড়ে উঠেছে। প্রভাবশালী উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি মে মাসে বলেছিল, তাদের একটি আধা সামরিক সংগঠন হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত। আরএসএস সম্পর্কে এমন ধারণা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে যাবে তারা।
.মুসলিমদের আধিপত্যবাদী ভাবনা ছাড়তে হবে: মোহন ভাগবত.আরএসএস তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিজেদের একটি ‘হিন্দুকেন্দ্রিক সভ্যতাভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ হিসেবেও বর্ণনা করেছে তারা। সংগঠনটির দাবি, হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘দেশকে গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়া’ তাদের লক্ষ্য।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাভাষী মুসলিমসহ ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে। কারণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলিমদের মালিকানাধীন সম্পত্তি ভেঙে ফেলা, মুসলিম-অধ্যুষিত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করা ও ধর্মান্তরবিরোধী আইন তৈরি; যা ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করে—এমন সব বিষয় তুলে ধরেছে তারা।
.মসজিদ-মন্দির বিতর্কে ভাগবতের মন্তব্যকে সমর্থন দিল আরএসএসের হিন্দি মুখপত্র পাঞ্চজন্য