যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গতকাল মঙ্গলবার রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে মস্কো গেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রের বরাতে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো সিআইএ প্রধানের জন্য এটিই প্রথম রাশিয়া সফর। তবে র্যাটক্লিফের এই সফর নিয়ে আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সিবিএস নিউজ ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ এই সফরে গেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে মস্কোতে তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করছেন বা আলোচনার বিষয়বস্তু কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই বিষয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ খবরটি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি, তবে তিনি রয়টার্সকে বলেন, "র্যাটক্লিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।"
এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে র্যাটক্লিফের পূর্বসূরি উইলিয়াম বার্নস রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়া সফর করেছিলেন। সেই সফরের মাত্র তিন মাসের মাথায় ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া, যে যুদ্ধ এখনো চলমান।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বহনকারী উড়োজাহাজ মস্কোতে যেতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইউক্রেনকে অনুরোধ করেছিল যেন এই সপ্তাহের সোম, মঙ্গল ও বুধবার মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা না চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের আগের দিন গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেছে, অন্যথায় দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোনো দেশের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওই দেশের সঙ্গে লেনদেনকারী তৃতীয় দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
বর্তমানে রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রদূত নেই। অন্যদিকে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারত্বের কারণে ব্যাপক সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত মার্চে অভিযোগ করেন, "ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তেহরান মস্কোকে ড্রোন সরবরাহ করেছিল। এখন রাশিয়া ওই ড্রোনগুলোর নিজস্ব সংস্করণ ইরানকে সরবরাহ করছে।"
এপ্রিলে রয়টার্সে প্রকাশিত ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালাতে রাশিয়া তাদের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি সরবরাহ করে ইরানকে সহায়তা করেছে। তবে মস্কো এ ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সমাধানে তারা সহায়তা করতে প্রস্তুত।