ফিফার নিয়মকানুনের জটিলতায় প্রস্তাবিত ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচটি আদৌ আয়োজন করা যাবে কি না, তা নিয়ে এমনিতেই যথেষ্ট সংশয় আছে। তার ওপর এই ম্যাচের আয়োজনে বাংলাদেশ সরকার কোনো অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয় বলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়ার পর অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
আমিনুল হক আজ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করার মানসিকতা সরকারের নেই। তবে বাফুফে যদি কোনো বেসরকারি স্পনসর এনে ম্যাচ আয়োজন করতে পারে, তাহলে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।
২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচ আয়োজনে বাফুফের প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (তখনকার ডলারের হিসাবে প্রায় ২৬-২৭ কোটি টাকা) খরচ হয়েছিল। সে সময় মূলত করপোরেট স্পনসরশিপ, ব্যাংকঋণ ও চড়া দামে টিকিট বিক্রি করে ব্যয় মেটাতে হয়েছিল।
এবার অবশ্য সরকারের সহায়তার নেওয়ার কথা সোমবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন বাফুফের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন। কিন্তু মন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট, সরকারি আর্থিক সহায়তা তারা পাবে না।
.তবে স্পনসর নিয়ে ম্যাচটা আয়োজনের সুযোগ খোলা আছে বাফুফের সামনে। ঠিক কত টাকা লাগবে? এ বিষয়ে বাফুফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য খরচ নিয়ে গত রাতে মুক্তকণ্ঠকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘থার্ড পার্টি থেকে অনেকেই বলেছে, ম্যাচটা আয়োজনে ৩ মিলিয়ন ডলার লাগতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা)। এটা আমি শুনেছি। কিন্তু এত ডলার খরচ করে ম্যাচের পক্ষে আমরা না।’
.কেন পক্ষে না, সেটারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে যারা ব্রাজিলকে আনছে, তারা আমাদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এটা প্রাথমিক পর্যায়েই আছে। আমার মূলকথা হলো, সরকার যেহেতু এ মুহূর্তে জ্বালানিসংকট আছে...আমাদের যে সংকটগুলো আছে, সেই মুহূর্তে একটা ম্যাচের জন্য এত টাকা ব্যয় করার পক্ষে বা ব্যয় করার মানসিকতা সরকারের নেই।’
.ব্রাজিল ম্যাচের জন্য টাকা খরচ করতে চায় না সরকার, বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী.প্রস্তাবিত ম্যাচ নিয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে আমিনুল হক যোগ করেন, ‘আমার সঙ্গে বাফুফে সভাপতির মৌখিক আলোচনা হয়েছে। তাঁকে আমি বলেছি, সরকারের পক্ষে এখন এই টাকা দেওয়া সম্ভব না। আপনারা বেসরকারিভাবে যদি অর্গানাইজ করতে পারেন, যদি স্পনসর জোগাড় করতে পারেন, তাহলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।’
এর আগে আজ বক্সিং ফেডারেশনের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল হক বলেছেন, ‘(ব্রাজিলের খেলা হলে) মানুষের যে প্রত্যাশা, সেটা হয়তো বা পূরণ হবে। দর্শকেরা হয়তো বা একটু আনন্দিত হবেন, কিন্তু ব্রাজিল টিম খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন আসবে, এ বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই।’
এই ম্যাচ আয়োজনে আর্থিক বিষয়ের বাইরেও ফিফা উইন্ডোর নিয়মও বড় বাধা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে সর্বোচ্চ ৪টি ‘টায়ার-১’ ম্যাচ খেলা যাবে, যা ইতিমধ্যেই আসিয়ান কাপের ৪টি ম্যাচ দিয়ে নির্ধারিত বাংলাদেশের জন্য। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেললে তা হবে পঞ্চম ম্যাচ। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের ঢাকায় ম্যাচ খেলা সম্ভাবনা কমই দেখা যাচ্ছে।
ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে গত রোববার। সেদিনই ঢাকায় এসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রতিনিধিদল আগামী ৫ বা ৬ অক্টোবর ব্রাজিল ফুটবল দলের সঙ্গে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।
.আসিয়ান কাপের জন্য ২৮ জনের প্রাথমিক দল