বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা কোচের পাশাপাশি তার দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন।
গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেস ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।
তবে ম্যাচ শেষের বাঁশির পর উৎসবের বদলে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে প্রবেশ করার পর আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
ঘটনার এক মাস পর গত শুক্রবার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সংশ্লিষ্টদের শাস্তি ঘোষণা করে। সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন পারেদেস; তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনাকে দেওয়া হয়েছে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্পেনের গাভিও অসদাচরণের দায়ে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।
পারেদেস ও মোলিনাকে ৯০ হাজার ডলার করে জরিমানা করেছে ফিফা। আয়ালা, আলমাদা ও গাভিকে ৩০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও বিভিন্ন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
আরএনইর ‘২৪ হোরাস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দে লা ফুয়েন্তে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন দৃশ্য ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। স্পেন কোচ বলেন, “দুইশ কোটির বেশি মানুষের সামনে আমরা এমন দৃশ্য তুলে ধরতে পারি না।” তার দাবি, সংঘর্ষে স্পেনের খেলোয়াড়েরাই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে স্প্যানিশ দলের কেউ জড়িত ছিলেন না বলে দে লা ফুয়েন্তে দাবি করলেও ফিফা গাভিকে অসদাচরণের দায়ে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে।
দে লা ফুয়েন্তে জানান, ঘটনার পর স্কালোনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে তাকে বার্তা পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকেও একই ধরনের বার্তা পেয়েছেন তিনি। স্পেন কোচের প্রত্যাশা, ফুটবলের সুনাম এবং তরুণদের মধ্যে খেলাটির শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখার স্বার্থে এমন ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।
ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিশেষ করে প্যারেদেস ও মোলিনার নিষেধাজ্ঞা কমানোর জন্য আপিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা।