গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদ ছয় নতুন খেলোয়াড়কে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে কেনা আইভরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে এসেছেন বের্নার্দো সিলভা ও মার্ক কুকুরেয়া। তবে মাঝমাঠে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে না পাওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে, যিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার জার্সিতে খেলবেন। তা সত্ত্বেও রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিও এই দল নিয়েই সন্তুষ্ট। পর্তুগিজ এই কোচ জানিয়েছেন, তিনি বর্তমান দল নিয়েই লড়াই করতে প্রস্তুত।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, “আমার চোখে দল প্রস্তুত। কিন্তু ট্রান্সফার মার্কেট তো এখনো খোলা, আপনি কখনোই জানেন না কে কখন এসে বলবে যে সে টানা দুই ম্যাচ বেঞ্চে বসে থেকে দল ছাড়তে চায়!” নতুন খেলোয়াড় আসার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “তাত্ত্বিকভাবে নতুন কোনো চুক্তি হওয়ার কথা নয়। তবে ফুটবলে সব সময়ই কিছু না কিছু ঘটতে পারে। আমার মাথায় অবশ্য দল পুরোপুরি তৈরি। আমি নতুন করে কারও জন্য ক্লাবের কাছে আবদার করিনি। যেসব খেলোয়াড় হাতে আছে, তাঁদের নিয়েই আমি ভীষণ খুশি।”

গত দুই বছরে লুকা মদরিচ ও টনি ক্রুসের বিদায় রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, তার প্রভাব এখনো দেখা যাচ্ছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে মরিনিওর দল শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে। সেই ম্যাচে মরিনিও মাঝমাঠে সিলভা ও ফেদেরিকো ভালভার্দেকে খেলিয়েছিলেন। মরিনিও ভালভার্দেকে মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবেই দেখেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে সে কেবল মাঝমাঠের ফুটবলার। প্রতিপক্ষ কে আর আমাদের লক্ষ্য কী, তার ওপর নির্ভর করবে সে এক জায়গায় স্থির থাকবে, নাকি সারা মাঠ চষে বেড়াবে।”

আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট পজিশনে বেঁধে রাখার পক্ষপাতী নন মরিনিও। তিনি বলেন, “আমি কাউকে নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করতে চাই না। চুয়ামেনি ৬ নম্বর, কামাভিঙ্গা ৬ নম্বর, ফেদে ৮ নম্বর, বের্নার্দো ১০ নম্বর, এভাবে ভাবি না। ম্যাচের ভেতরে এই ছক আর অবস্থানগুলো সব মিলিয়ে মিশিয়ে এক হয়ে যায়।”

পরের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে পাওয়া যাবে না। মরিনিও ব্যাখ্যা করেন, “ওর একটু সমস্যা আছে। ছুটির সময়টা ওর সুস্থতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের দিন যত এগিয়ে আসছিল, ছেলেটা খেলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুরো ফিট না হলে ওকে নামাব না। মৌসুমের শেষ দুই মাস হয়তো কষ্ট করে করে পার করে দেওয়া যায়, কিন্তু আগস্টে শতভাগ ফিট না হয়ে শুরু করা উচিত নয়। তাই মেডিক্যাল টিম আর কোচিং স্টাফ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ও যখন শতভাগ তৈরি হবে, তখনই মাঠে নামবে।”

রদ্রিকে না পেলেও এবং নতুন মুখ এলেও মরিনিও নিজের মতো করে একটি নতুন রিয়াল মাদ্রিদ তৈরি করছেন। তার কণ্ঠে এখন একটাই কথা, “আমি খুশি।”