কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপ সহ্য করতে না পেরে হারুন অর রশিদ খালেক নামে এক ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি আমবাগান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত খালেক কুমারখালী উপজেলার বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে। তিনি ধান, পাট ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় ক্রমাগত লোকসান গুনছিলেন খালেক। চলতি বছর তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সংরক্ষিত পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ব্যাংক, এনজিও এবং বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ও ধারদেনা মিলিয়ে তার মোট দেনার পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাতে খালেক তার ছোট ভাই আব্দুল মালেককে মুঠোফোনে কল করে বলেন, "আমার ছোয়ালডা (ছেলেটা) থাকলো, তুই দেখিস।" কথাটি শুনে মালেক তার অবস্থান জানতে চাইলে খালেক শফিউল্লাহর আমবাগানের কথা উল্লেখ করে বলেন, "সকালে পাবি।"

এরপর আব্দুল মালেক তার বাবা ও ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত শফিউল্লাহর আমবাগানে যান এবং সেখানে একটি আমগাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় খালেককে দেখতে পান।

নিহতের স্ত্রী মালা খাতুন বলেন, "এ বছর আমাদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে যায়। এ নিয়ে তিনি সব সময় গভীর দুশ্চিন্তায় থাকতেন। আমাদের সংসারে কোনো পারিবারিক কলহ বা বিরোধ ছিল না, তবে তার মাথায় অনেক টাকা দেনার চাপ ছিল।"

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন জানান, খালেক নামের এক ব্যক্তির মরদেহ মর্গে আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঋণের চাপ সইতে না পেরেই ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।"