বগুড়ার শেরপুরের বাঙালি নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আমেজে মেতেছেন নদীর দুই তীরের মানুষ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চোমর পাথালিয়া এলাকায় নদীটির প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রঙিন নৌকার গতিশীল প্রতিযোগিতা, ঢাকের বাদ্য আর সারি গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সুঘাট ইউনিয়নের চোমর পাথালিয়া গ্রামে এই আয়োজনের আয়োজন করা হয়। বিকেল চারটার পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। প্রতিযোগিতার শুরুতেই বৈঠার তালের সাথে সুর মিলিয়ে একে একে ছুটে চলে বিভিন্ন অঞ্চলের দৃষ্টিনন্দন নৌকা। নদীর জলে নৌকার এই মনোরম দৃশ্য হাততালি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকেরা।
নৌকা বাইচ দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসংখ্য মানুষ ছুটে এসেছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাম্প্রতিক বন্যায় ফসলি জমিতে কৃষকদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার মধ্যে এই আয়োজন স্থানীয়দের মনে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দের খোরাক যুগিয়েছে বলে জানান দর্শনার্থীরা।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে নদীর তীরবর্তী প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে বিশাল এক গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, মেলায় প্রায় ৪০০টি নানা পসরা সাজানো দোকান বসেছে। মিষ্টি, বৈচিত্র্যময় খাবার, হরেক রকমের খেলনা ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র বেচাকেনায় জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বসানো হয়েছে নাগোরদোলা।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, গত শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের নৌকা বাইচের উদ্বোধন করা হয়। বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মোট ১৩টি নৌকা এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, "প্রায় তিন দশক ধরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বাঙালি নদীতে ধারাবাহিকভাবে এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। এই আয়োজন ঘিরে আশপাশের ১০ থেকে ১৫টি গ্রামে নতুন আনন্দের আবহ তৈরি হয় এবং প্রতিবছরই বহু মানুষ এ খেলা দেখতে নদীর তীরে ভিড় জমান।"
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, "নৌকা বাইচ ও মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নজরদারি বজায় থাকবে।"