নারী ও শিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা রোধে লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী ও শিশুরা বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও প্রতিবাদে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়াম-২-এ এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে ‘শিশুদের শৈশবকে সুরক্ষিত রাখুন’ প্রতিপাদ্যের আলোকে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার রোজী বলেন, "স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত ঘরে ও বাইরে চলার পথে যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের ঘটনার শিকার হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় নারী ও শিশুরা অনেক সময় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে অশোভন স্পর্শের শিকার হচ্ছে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ছাত্রীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বন করতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে এবং ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।"
কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা জানান, প্রতিবছর ২৪ আগস্ট নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় কিশোরী ইয়াসমিনকে পুলিশ সদস্যরা দলবদ্ধ ধর্ষণ করে ও এরপর হত্যা করেন। ওই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং তাঁকে স্মরণ করে এই দিবসটি পালন করা হয়।
রেখা সাহা বলেন, "শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ লিঙ্গবৈষম্য। কন্যাশিশুরা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হয়। তরুণদের লিঙ্গ–সংবেদনশীল পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের নিজেদের সচেতন হতে হবে এবং নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে।"
সভার সভাপতি ও সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, "পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন নিপীড়ন ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং লিঙ্গ–অসমতা দূর করে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার শুভ সূচনা হলো।
‘শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করুন’—এই আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত সভায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতা ও কর্মকর্তাসহ মোট ৬২ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা জাহান ইকরা ও আসিফা জামান আঁচল।