ক্লাব পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের ফুটবলীয় পরিচয় বদলে নিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার সাভিনিও। ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে টটেনহামে যোগ দেওয়া ২২ বছর বয়সী এই তারকা এখন থেকে ‘সাভিও’ নামে পরিচিত হতে চান। নতুন ক্লাবের জার্সির পেছনেও লেখা থাকবে এই নাম।

তবে এটি তার আইনি নামের পরিবর্তন নয়। এতদিন মাঠে ‘সাভিনিও’ নাম ব্যবহার করলেও টটেনহামের সাথে নতুন যাত্রা শুরু করার পর নিজের আসল নাম ‘সাভিও’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ফুটবলার।

সাভিওকে দলে নিতে প্রাথমিকভাবে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে টটেনহাম, যা বর্তমান বিনিময় হারে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। চুক্তিতে আরও ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের শর্তসাপেক্ষ বোনাস রয়েছে। সব শর্ত পূরণ হলে এই দলবদলের মোট মূল্য ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে, যার বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড় বিক্রি করে পাওয়া সর্বোচ্চ অঙ্কের রেকর্ড গড়েছে এই দলবদল। ২০২৪ সালে ফরাসি ক্লাব ত্রোয়া থেকে সাভিওকে ৩০.৮ মিলিয়ন পাউন্ডে (প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা) কিনেছিল সিটি। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারকে বিক্রি করে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পেতে পারে পেপ গার্দিওলার সাবেক ক্লাবটি।

সাভিওকে কেনার পর চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে টটেনহামের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। তবে উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটি এখনও নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ করেনি। তারা ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশকে দলে নেওয়ার কাছাকাছি রয়েছে, যার সম্ভাব্য দাম ৫০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। পাশাপাশি লিভারপুলের কোডি গাকপোরের দিকেও নজর রাখছে ক্লাবটি।

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর আক্রমণভাগের শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন কোচ রবার্তো ডি জারবি। ডান প্রান্তে খেলতে স্বচ্ছন্দ সাভিও তার বাঁ পায়ের নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ তৈরি করতে সক্ষম।

ম্যানচেস্টার সিটিতে নিজের প্রথম মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩ গোলের পাশাপাশি ১৩টি গোলে সহায়তা করেছিলেন সাভিও, যার মধ্যে ১০টি সহায়তা ছিল প্রিমিয়ার লিগে। গত মৌসুমে তার নামের পাশে ছিল ৪ গোল ও ৩টি সহায়তা। তবে ইংলিশ লিগের ৫৩ ম্যাচে তিনি মাত্র দুবার গোল করেছেন।