গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সরকারের গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ঘটনায় গুদামের মালিকের ওপর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনগ্রাম ইউনিয়নের মনদুয়ার গ্রামের ওই গুদামে অভিযান চালানো হয়। সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, "অভিযানে গুদামে অতিরিক্ত মজুত রাখা বিভিন্ন ধরনের সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫০ কেজির ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ১৬ বস্তা ডিএমপি, ১৩ বস্তা টিএসপি, দুই বস্তা পটাশ (এমওপি) এবং ২৫ কেজির ২৮ বস্তা জিপসাম রয়েছে। এসব সারের আনুমানিক মূল্য ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গুদামের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।" জব্দ করা সারগুলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এদিকে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সরকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে দাবি করেন, "আমি কোনো সারের ডিলার নই। সার মজুতের সঙ্গে আমি জড়িত নই। যে গুদাম থেকে সার উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি আমার গরুর খামার ছিল। এখন পরিত্যক্ত। আমার এক ভাতিজা কীটনাশক ও খুচরা সার বিক্রি করে। খুচরা সার বিক্রি করা যাবে না শুনে সে দুদিন আগে আমার পরিত্যক্ত ঘরে কিছু সারের বস্তা রেখে যায়। ঘরের চাবিও ছিল তার কাছে।"
সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন যে, সামনে স্থানীয় নির্বাচন থাকায় এবং তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসানোর জন্য প্রশাসনকে খবর দিয়ে এই অভিযান ও জরিমানা করিয়েছে।
অন্যদিকে, সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা সারগুলো পরবর্তীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।