লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অনশন করছেন ফেনীর এক তরুণী। তাঁর অভিযোগ, প্রেমিক বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্কে জড়িয়ে এখন অস্বীকার করছেন। তরুণী দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, “বিয়ে না করে আমি যাব না।”
গত রোববার বিকেল থেকে চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাটোয়ারীবাড়িতে মৃত আবুল খায়েরের ছেলে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেনের বসতঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ওই তরুণী।
অনশনরত তরুণীর দাবি, ইমন হোসেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের আশ্বাসে ইমনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর এখন তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এ অবস্থায় ফেনী থেকে এসে ইমনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তাঁর দাবিতে অনড় রয়েছেন।
তরুণী বলেন, “ইমন আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। তার কথায় বিশ্বাস করেই আমি সম্পর্কে জড়িয়েছি। এখন সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। ইমন আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।”
ওই তরুণীর অভিযোগ, সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে ইমন তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। তাই নিজের অধিকার আদায়ে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন করছেন তিনি।
ফেনী থেকে তরুণী এসে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়। তাঁকে দেখতে ওই বাড়িতে স্থানীয় লোকজনের ভিড়ও দেখা যায়।
তরুণীর অভিযোগের বিষয়ে ইমন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর মা বলেন, “ছেলে ও মেয়েটির মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে বলে শুনেছি। ছেলে চার মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিল। এখন আবার বিদেশে চলে গেছে। সে দেশে থাকাকালে মেয়েটি একবার আমাদের বাড়িতে এসে ঝামেলা করেছিল। এখন আবার এসেছে। আমাদের ধারণা, আমাদের অপমান-অপদস্থ করতেই সে এখানে এসেছে।”
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ওই তরুণী এর আগেও একাধিকবার ইমনের বাড়িতে এসেছেন। গত ১ জুলাইও তিনি একই বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন পুলিশ তাঁকে বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ওসি আরও বলেন, ওই সময় তরুণী প্রথমে তাঁর সঠিক নাম-ঠিকানা দেননি। পরে তিনি যে নাম-ঠিকানা দেন, সেটি যাচাই করতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে তদন্ত করেন। কিন্তু তাঁর দেওয়া ঠিকানার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি সঠিক কোনো মোবাইল নম্বরও দেননি।
ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “তরুণীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তখন তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি আবারও ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।”