নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বাতিল, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার এবং পূর্বের ডিজিটাল মিটার বহাল রাখার দাবিতে গণ–অনশন করেছেন নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতা–কর্মীরা। পরে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অনশন ভঙ্গ করেন।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। গণ–অনশন চলাকালে বেলা পৌনে একটার দিকে সংসদ সদস্য আবুল কালাম সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।
নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান (ইসমাইল) জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ৭৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এই গণ–অনশন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহকদের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মিটার বাতিল ও প্রত্যাহার করতে হবে।” মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটারের স্ল্যাবের নামে (আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রিপেইড মিটারের বিল কাটার প্রক্রিয়া) গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান (মাসুম) জানান, নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে এই গণ–অনশনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্ম। তাঁরা প্রিপেইড মিটার লাগাবেন না। পাড়া–মহল্লায় যেখানেই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য আসা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে।” তিনি প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ‘ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণ–অনশনে বক্তারা বলেন, যেসব গ্রাহকের আগের ডিজিটাল মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে, তাঁদের আগের মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এর আগে গত ১১ আগস্ট একই দাবিতে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছিল নাগরিক অধিকার ফোরাম। ওই কর্মসূচি থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ না হলে হরতালসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়।
গণ–অনশন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে তিনিও এ বিষয়ে ভুক্তভোগী। তবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন সরকারি নীতিনির্ধারণের বিষয় হওয়ায় তিনি বিষয়টি সরকারের কাছে ও জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন।
আবুল কালাম বলেন, “আশা করি, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও জানান, চলতি সংসদ অধিবেশনেই আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করবেন। পরে তাঁর আহ্বানে আন্দোলনকারীরা পানি পান করে গণ–অনশন ভাঙেন।