সাড়ে পাঁচ মাসের দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডে (সিইউএফএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাটিতে আজ মঙ্গলবার সকালে গ্যাস আসা শুরু হয়। এর ফলে খুব দ্রুতই ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে কারখানাটি অচল হয়ে পড়েছিল। তবে এর আগেও যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে গত দুই বছর ধরে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।
আজ বেলা ১১টার দিকে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গ্যাস পাওয়ার পর কারখানার যন্ত্রপাতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।"
পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে এই কারখানা দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে পারে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৩৮ হাজার টাকা হিসেবে দৈনিক উৎপাদন মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
কারখানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস-সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৫ দিন চালু ছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ১৩ অক্টোবর পুনরায় চালু হয়। তবে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি আবারও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে কারখানাটি চালু হলেও ১১ এপ্রিল গ্যাস-সংকটে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। টানা ৬ মাস বন্ধ থাকার পর ২ নভেম্বর চালু হয়ে ওই দিনই আবার বন্ধ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ ২ মার্চ চালু হলেও ৪ মার্চ গ্যাস সংকটে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনের জন্য এই কারখানায় দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সিইউএফএলসহ বিসিআইসির অন্যান্য কারখানাগুলো প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন করে। বাকি ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।
জাপানের কারিগরি সহায়তায় ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুর দিকে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সিইউএফএল দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম।