দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন করাকে ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার (বার্তাবাহককে হত্যা করা)’ প্রবণতা বলে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একে মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাক্স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার খর্ব করার আত্মঘাতী প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করে তা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ অসাংবিধানিক। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় তাঁর নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান প্রকাশ না করে প্রতিমন্ত্রীর পদ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
.টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গত শুক্রবার শপথ নেওয়া হুমায়ুন কবির শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠেছেন। তিনি সে দেশের নাগরিক বলে যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ (রিনাউন্স) করেছেন কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত করতে পারেননি।
.বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে জবাবে হুমায়ুন কবির পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কে এটা নিউজ করেছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘কার এত জ্বালা যে মানে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’
.টিআইবি বলেছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিবেদনকারী গণমাধ্যম ও প্রশ্ন উত্থাপনকারী সংবাদকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলক পাল্টা প্রশ্ন একজন প্রতিমন্ত্রীর জন্য অনৈতিক ও উদ্বেগজনক। বিষয়টি সরকারের জন্যও বিব্রতকর। একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদধারীর কাছ থেকে বৈধ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাবে এ ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।.
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, সঠিক তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশের লক্ষ্যে সংবাদকর্মীর প্রশ্নের উত্তরে ‘কে নিউজ করছে’, ‘কার এত জ্বালা’ বলে পাল্টা প্রশ্ন করা পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ চর্চার প্রতিফলন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সংবাদটি কে করেছে বা কে প্রশ্ন তুলেছে, তা এখানে মূল বিষয় নয়। মূল প্রশ্ন হলো, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কি না। এমন একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তাঁর (প্রতিমন্ত্রীর) দায়িত্ব।
.বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদকে কেন্দ্র করে। তাই এর আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর বিতর্কের ঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিবেদনকারী গণমাধ্যম ও প্রশ্ন উত্থাপনকারী সংবাদকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলক পাল্টাপ্রশ্ন একজন প্রতিমন্ত্রীর জন্য অনৈতিক ও উদ্বেগজনক। বিষয়টি সরকারের জন্যও বিব্রতকর। একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদধারীর কাছ থেকে বৈধ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাবে এ ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এতে ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তিকর বিষয়ে প্রশ্ন করাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। সংবাদকর্মীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘চিলিং ইফেক্ট’ সৃষ্টির আশঙ্কাও বাড়ে।
.ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বললেন, কে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা.সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রকাশ ও তাঁর নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি বলেও টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদকে কেন্দ্র করে। তাই এর আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর বিতর্কের ঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সমমর্যাদার দায়িত্বশীল ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন থাকলে স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক জবাবদিহির স্বার্থে তাঁদের ক্ষেত্রেও একইভাবে অবস্থান ও প্রামাণ্য তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
.পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার দাবি বিজেআইএমের