পোলট্রি ফিডের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন খামারিরা। এর আগে তাঁরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

‘খামারি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগান নিয়ে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় পদচারী–সেতুর নিচে বাংলাদেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কের ময়মনসিংহ অভিমুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে পোলট্রি ফিডের দাম কমানোর আলটিমেটাম দিয়ে তাঁরা রাস্তা ছেড়ে দেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান মামুন বলেন, “৩০ আগস্টের মধ্যে পোলট্রি ফিডের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় ১ সেপ্টেম্বর কাফনের কাপড় পরে দাবি আদায়ে আবারও রাস্তায় নামবেন তাঁরা।” তিনি আরও জানান, দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন–কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

খামারিদের অভিযোগ, একদিকে পোলট্রি ফিডের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক খামারি লোকসানে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বক্তারা জানান, একটি পোলট্রি খামারের মোট উৎপাদন ব্যয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই খাদ্য বাবদ খরচ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে দুই হাজার মুরগির একটি খামারে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। একই সময়ে বাজারে ডিমের দাম কমে যাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

খামারিরা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি কেজি খাদ্যে প্রায় দুই টাকা এবং প্রতি বস্তায় ১০০ টাকার বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে ডিম ও মুরগির দাম না বাড়ায় খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বক্তারা খাদ্যের দাম কমানো ছাড়াও ভুট্টা ও অন্য কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার বা সমন্বয়, সয়াবিন ও ভুট্টাসহ ফিডের কাঁচামালে সরকারি ভর্তুকি, কৃষি খাতের মতো পোলট্রি খাতেও বিদ্যুতে সাশ্রয়ী রেট এবং ফিড মিলগুলোতে বিএসটিআইয়ের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার পর্যন্ত ৫০ কেজি ফিডের যে বস্তা ৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বিক্রি হতো, সেই বস্তার দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা বেড়েছে। যে বস্তা ২ হাজার ৯৬০ টাকায় বিক্রি হতো, সেটির দাম বেড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, “পোলট্রি সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খামারিদের পাশে আছি। এর আগে ডিমের দাম ৫-৬ টাকা কমে গেলে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন প্রতিমন্ত্রী খামারিদের সঙ্গে বৈঠক করে ফিডের শুল্ক কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দাম কমার পরিবর্তে ফিডের দাম আরও বেড়েছে।”