স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন সব সরকারি অফিসের ছাদে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।

ধাপে ধাপে এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি অফিসগুলোতেও ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে একটি সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সরকারি সেবা অবকাঠামোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে। সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ও হাইব্রিড সিস্টেম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সন্ধ্যার পরও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো হবে। এ লক্ষ্যে ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল ও গ্রামীণ শক্তির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনার কথা উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং এ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।"

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দুজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের আওতাধীন সরকারি ভবনগুলোর মধ্যে যেসব ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব, সেসব স্থান চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি চিহ্নিত ছাদগুলোর মোট ক্ষেত্রফল, সম্ভাব্য ব্যয় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনা জারি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল ও গ্রামীণ শক্তির প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।