নাটোরে এক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে অতিথি না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বেআইনিভাবে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা ও মাইকিং করার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মারুফ আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নাটোর জেলা শাখার সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ২৩ আগস্ট লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারা এবং আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনের যৌথ নির্দেশে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে প্রথমে শোকজ করা হয়েছিল। বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার সাথে যেকোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম বলেন, "দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজ ছাত্রদল মেনে নেবে না। তাই লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুরের কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছর ধরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ঐতিহ্য চলে আসছে। এবারও গ্রামবাসী টুর্নামেন্টের আয়োজন করে, যেখানে গ্রামের কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরিজীবী দল অংশ নেয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী গ্রামের প্রবীণরাই এই আয়োজনের প্রধান অতিথি ও পুরস্কার বিতরণকারী হন। তবে এই আয়োজনে আমন্ত্রণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন মারুফ আলী। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন তিনি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং করেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব হোসেন জানান, মারুফ আলী টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি করার চাপ দিচ্ছিলেন। আয়োজক কমিটি এতে রাজি না হলে তিনি শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় দফায় মাইকিং করে জানান, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং কেউ খেলতে পারবেন না। এর ফলে খেলাটি স্থগিত হয়ে যায়।

কেশবপুর গ্রামের প্রধান আজিজুর রহমান জানান, এই বেআইনি ঘোষণার পর ম্যাচ বন্ধ হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এলেও ওই নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা প্রশাসন ছাড়া অন্য কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, "এলাকায় অবৈধভাবে মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি তৈরি করা বেআইনি ও বড় ধরনের অপরাধ। লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না থাকায় তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"