বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান জানাতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছে দলটি। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সম্পাদকদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার এটি প্রথম মতবিনিময়।
সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, "জামায়াতের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক।"
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "বৈঠকে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। এ মতবিনিময় সভায় জামায়াতের পলিসি বা নীতি তুলে ধরা হয়েছে।"\ তিনি আরও জানান, রাজপথে আন্দোলন করলেও দেশ যেন অস্থিতিশীল না হয়, সেই পরামর্শ দিয়েছেন সম্পাদকরা।
মতবিনিময় সভায় আমিরে জামায়াত বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের ভূমিকা তুলে ধরেন। জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ এবং বিশেষ করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সমাধানে জামায়াতের ভূমিকা আলোচনা করেন তিনি। আমিরে জামায়াত উল্লেখ করেন, সংসদে ও সংসদের বাইরে জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "অতীতে প্রচলিত ও প্রথাগত বিরোধীদলের যে খারাপ অনুশীলন ছিল; সেই প্রথা ভেঙে দিয়ে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং সব অন্যায় ও গণবিরোধী কাজের প্রতিরোধ করতে জামায়াত যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমীরে জামায়াত।"
বৈঠকে বর্তমান সরকারি দলের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারি দল জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের এমপিদের সাথে বৈষম্য করছে। তারা উন্নয়নমূলক কাজে, বরাদ্দে এমনকি সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে, আইন প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে, নানা নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য করছে।"
তিনি আরও বলেন, "জামায়াত বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট, গণভোটের গণরায় কার্যকর করার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তারপরও স্পিকারের পক্ষ থেকে আমরা ইনসাফপূর্ণ আচরণ পাইনি। বরং বৈষম্যের শিকার হয়েছি।"
গণতন্ত্রের উত্তরণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে আমিরে জামায়াত সম্পাদকদের লেখনির মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার অনুরোধ করেন। অন্যদিকে, সম্পাদকরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, অতীতের বিরোধীদলগুলোর তুলনায় জামায়াত ব্যতিক্রম। তারা জানান, জামায়াত সংসদকে গঠনমূলক পন্থায় কার্যকর রাখতে চায়, তবে এজন্য সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মতবিনিময় সভায় দৈনিক আমার দেশ, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক মানবজমিন, মুক্তকণ্ঠ, বণিক বার্তা, নয়া দিগন্ত, ডেইলি ওয়াদা, দৈনিক ইনকিলাব, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, দৈনিক মানবকণ্ঠ, দৈনিক কালবেলা, দৈনিক এদিন, খবরের কাগজ, ভোরের ডাক, আজকের পত্রিকা, দেশ রূপান্তর, বাণিজ্য প্রতিদিন, দৈনিক করতোয়া, দৈনিক জনতা, আগামীর সময়, শীর্ষ কাগজ, দ্য নিউ নেশন, গ্রিন ওয়াচ, দ্য ইভিনিং নিউজ, ডেইলি সান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং দৈনিক সংগ্রামের বার্তার সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ড. রেজাউল করিম, মুহাম্মাদ জাহিদুর রহমান, দেলাওয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি ও আতাউর রহমান সরকারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।