আমন ধানের মৌসুমে দেশজুড়ে সারের তীব্র সংকট ও অস্থিরতা নিরসনে জরুরি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক–মজুর সংহতি। সংগঠনটির অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ডিলাররা ভর্তুকির সার কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে গোপন মজুত গড়ে তুলছেন, যার ফলে কৃষকেরা উচ্চমূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে কৃষক-মজুর সংহতির সভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ (নীলু) ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম এই দাবি জানান। ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের এই কৃষক সংগঠনটি সার সরবরাহে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা, আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা এবং দুর্নীতির তীব্র নিন্দা করেছে।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি পাঁচটি বিশেষ দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কৃষক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জরুরি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠন করে জালিয়াতি ও হয়রানি বন্ধ করা; কালোবাজারি ও অব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ডিলার এবং আমলাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া; চীন, রাশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জরুরি ভিত্তিতে সার আমদানির ব্যবস্থা করা; দুর্নীতিগ্রস্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করে খোলাবাজারে সরাসরি সার বিক্রয় ও কিউআর কোড ভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিং চালু করা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সারের ভর্তুকি সরাসরি কৃষকদের নগদে প্রদান করা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, "সারা দেশে আমন ধানের মৌসুমে সার নিয়ে চলছে প্রচণ্ড অস্থিরতা ও সংকট। অথচ সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো প্রকৃত সংকট নেই।"
সংগঠনটি আরও জানায়, গত ১০ দিন ধরে রাজশাহী, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ প্রধান ধান উৎপাদন এলাকাগুলো থেকে অভিযোগ আসলেও কৃষিমন্ত্রী ও সচিব তা অস্বীকার করে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলেছেন। এরই মধ্যে গতকাল রোববার কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা এক ডিলারের মজুত ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন।
কৃষক–মজুর সংহতির মতে, সার সরবরাহ নীতিমালার সাম্প্রতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিলারদের আর্থিক লেনদেন এবং অধিক মুনাফার লোভে এক এলাকার ডিলার অন্য এলাকায় মজুত গড়ে তোলার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "সরকার–নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির জন্য গোপন মজুত গড়ে তুলেছেন, পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।"