‘ফুলবাড়ী গণ–অভ্যুত্থানের’ ২০ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট)। এ উপলক্ষে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পর্যন্ত একটি প্রচারযাত্রার আয়োজন করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। আজ সোমবার সকালে ঢাকায় এই প্রচারযাত্রার উদ্বোধন হয়েছে।
আগামী বুধবার ফুলবাড়ীতে অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন অধিকার কমিটির নেতা–কর্মীরা। মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলে সরকারকে বাধ্য করার শপথের মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ীতে প্রচারযাত্রাটি শেষ হবে।
আজ সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এই প্রচারযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী অভ্যুত্থানে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ফুলবাড়ীবাসীর পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি জানান, প্রচারযাত্রাটি হচ্ছে চারটি দাবিতে—দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধ করা।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হওয়া প্রচারযাত্রাটি গাজীপুর চৌরাস্তায় পথসভা, টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, টাঙ্গাইল শহরে সমাবেশ, সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে পথসভা, বগুড়ার শেরপুরে পথসভা করে রাতে বগুড়া শহরে গিয়ে বিরতি নেবে।
দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে বগুড়ায় সমাবেশ, দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পথসভা, দিনাজপুরের বিরামপুরে পথসভা ও বিকেলে দিনাজপুর শহরে সমাবেশ করে রাতে ফুলবাড়ীতে গিয়ে বিরতি দেবে। বুধবার ফুলবাড়ীতে অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, পরে ফুলবাড়ী শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিহত করতে জীবন উৎসর্গ এবং মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলে সরকারকে বাধ্য করার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রচারযাত্রাটি শেষ হবে। এদিন ফুলবাড়ীতে ‘মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির বিপদের প্রদর্শনী’ শীর্ষক প্রদর্শনীরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
আজ উদ্বোধনী সমাবেশে অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছিলেন। সেই চুক্তির মূলকথা ছিল—বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী আর কোনো উন্নয়ন প্রকল্প হবে না, উন্মুক্ত খনি তৈরি হবে না এবং জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প হবে না।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ২০ বছর পর আবার বিএনপি সরকার এখন ক্ষমতায়। আমরা উদ্বিগ্ন হচ্ছি, যে চুক্তি খালেদা জিয়া করে গিয়েছিলেন, সেই চুক্তি বাতিলের কথা বলা হচ্ছে, যখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর পুত্র তারেক রহমান। সেই তৎপরতার মুখে ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আমরা এই প্রচারযাত্রা করছি।’
উদ্বোধনী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ও বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক রাফিকুজ্জামান ফরিদ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানির কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের বিশাল সমাবেশে সেই সময়ের বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) গুলি চালালে তিনজন নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক আন্দোলনকারী। এরপর ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর, বিরামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে সে বছরের ৩০ আগস্ট সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ করেছিল।