দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যকে ‘অপেশাদার ও আক্রমণাত্মক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহার এবং নাগরিকত্ব বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বিজেআইএম বলেছে, প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য উপযুক্ত নয় এবং মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পেশাদারত্বের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে করা একটি সরাসরি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে উপহাস করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং এমন একটি সময়কে টেনে এনেছেন, যা একটি অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বিবৃতিতে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মন্ত্রী মূল প্রশ্নটির কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেননি। তাঁর বিদ্রূপাত্মক ও আক্রমণাত্মক ভাষা এবং বৈধ প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ইঙ্গিত করা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখাতে পারে। একই সঙ্গে তা ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।

বিজেআইএমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশ্নটি হলো, মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন কি না। হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ব্রিটেনের রাজনৈতিক জীবন ও স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় প্রশ্নটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি লেবার পার্টি থেকে বেনশাম ম্যানর–এর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্রয়ডনের মেয়র ছিলেন।

আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বিষয়টি তুললে ক্যামেরার সামনে হুমায়ুন কবির বলেন, “কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?”

বিজেআইএম বলেছে, মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার এমন আচরণ শুধু অশোভন নয়, এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ভূমিকাকেই ক্ষুণ্ন করে এবং এমন একটি ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যেখানে সাংবাদিকেরা স্ব–আরোপিত বিধিনিষেধে বাধ্য হবেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বৈধ প্রশ্ন করতে নিরুৎসাহিত হবেন। অতীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এ ধরনের প্রবণতা প্রায় সময় দেখা গেছে।

এ কারণে বিজেআইএম প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁর নাগরিকত্বের অবস্থা এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে যে বৈধ প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে হবে।

বিজেআইএমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকেরা এমন কোনো প্রতিপক্ষ নন, যাঁদের কটাক্ষ বা ভয় দেখাতে হবে। তাঁরা নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করে জনস্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, সংবাদমাধ্যম যেন সততা, স্বাধীনতা ও ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে নাগরিক ও তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে সংবাদমাধ্যম কাজ করতে পারে এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে।