হয় পদত্যাগ করুন, নয়তো নেতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে—ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি এ–ই হলো উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনের সতর্কবার্তা। তবে ইনফান্তিনোকে সরিয়ে ফিফা সভাপতি হওয়ায় ‘আগ্রহ নেই’ বলেও জানিয়েছেন সেফেরিন।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ ঢালার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তীব্র সমালোচনার মুখে সে পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে পদত্যাগ করার জন্য ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে।
.ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ফিফার টুর্নামেন্টগুলো বর্জন করার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া মহাদেশীয় ও জাতীয় কয়েকটি সংস্থাও ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
এশিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসি ও উত্তর আমেরিকা-ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনক্যাকাফের কাছ থেকেও পদত্যাগের চাপের মুখে আছেন ইনফান্তিনো। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ও এশিয়ার কিছু দেশের সমর্থন এখনো তাঁর প্রতি। সম্প্রতি ডেনমার্ক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিইউ) পরিষ্কার জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আর আস্থা নেই।
.মরক্কোর রাবাতে আগামী বছরের ১৮ মার্চ ফিফার ৭৭তম কংগ্রেসে নির্ধারিত হবে ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার পরবর্তী নেতৃত্ব। ইনফান্তিনো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
.৯ পেনাল্টি, ৯ গোল—রাফিনিয়ার রাতে বার্সার ৫.উয়েফা সভাপতি সেফেরিন জানিয়েছেন, ইনফান্তিনোর বিরোধিতা করলেও তাঁর নিজের ফিফা সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা নেই। ৫৮ বছর বয়সী এই স্লোভেনীয় সোমবার ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে বলেন, ‘দুটি কারণে আমি এতে আগ্রহী নই। একটি হচ্ছে আমি উয়েফাকে ভালোবাসি এবং এখানে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। আর আমার মনে হয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে...জীবনও কিছুটা উপভোগের সময় আসে। দ্বিতীয় কারণ, এই পদের প্রতি আমার আগ্রহ না থাকলে আমার গ্রহণযোগ্যতা অনেক, অনেক বেশি থাকবে।’
সেফেরিনের মতে, ইনফান্তিনো যদি পুনর্নির্বাচন চান, তবে তাঁকে হয় পদত্যাগ করতে হবে, না হয় নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, ‘দুটি বিকল্প আছে। একটি হলো, তিনি (ইনফান্তিনো) বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর কোনো সমর্থন নেই এবং সেটি কেবল যাঁরা ভোট দেন, তাঁদের রাজনৈতিক সমর্থন নয়; বরং এর মধ্যে রয়েছে ফুটবল সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন, সমর্থকদের রাজনৈতিক সমর্থন, খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের রাজনৈতিক সমর্থন। দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো, তিনি মার্চে নির্বাচনে যাবেন, সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, তাঁর বিপক্ষে একজন প্রার্থী থাকবেন। আমি এখনো জানি না তিনি কে।’
.কনক্যাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি এবং এএফসি প্রধান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা ইনফান্তিনোর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
.নতুন চুলের ছাঁট নিয়ে হলান্ড, ‘কে কী বলল, তাতে কী আসে যায়’.এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আগামী বছরের মার্চে ভোটের আগে উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফ তৃতীয় বিকল্প পথ খুঁজছে। ইনফান্তিনোর ওপর অনাস্থা ভোটের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
.২০১৬ সাল থেকে ফিফা সভাপতির পদে আছেন ইনফান্তিনো। ২০৩১ সাল মেয়াদ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচন জিততে তুলনামূলক কম সচ্ছল জাতীয় ফেডারেশনগুলোর সমর্থনের ওপর যে ইনফান্তিনো ভরসা করছেন, সেটা তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন।
গত সপ্তাহে ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের (সিএফইউ) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর ফিফার প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ধনী ও দরিদ্র অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনা ফিফার কাজ। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বিশ্বের আমাদের ২১টি দেশের প্রতিটিতে ফুটবলকে বিকশিত করতে চাই।’