ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা এবং শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। তিনি বলেন, "নিম্ন আদালত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। পাঁচজনকে যাবজ্জীবন ও ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে আদালতের রায়ের প্রতি আস্থা রাখছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে, তা আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

অপরাধীদের দ্রুত চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি দ্রুত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না।"

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার ১৬ আসামির প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। এরপর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারে থেকেই নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে আসা নুসরাতকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর ৮ এপ্রিল মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে নিম্ন আদালত রায় প্রদান করেছিলেন।