হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং ফসলি জমি, বীজতলা ও শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে।

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। একপর্যায়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর মেরামত করা প্রতিরক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার লস্করপুর ও পৈল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং বাহুবল উপজেলার লাতাশি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামসহ মোট ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারের সদস্যরা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি ও স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। ফলে নদীর পানি সামান্য বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আগের ভাঙনের পর মেরামতকাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমদাদ মিয়া জানান, এর আগেও খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেরামতকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এর মধ্যেই উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধের ওই অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

আরেক বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, “বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার না হলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের ভাঙন ও প্লাবনের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে মানুষের বসতবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরাও ফসল হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।” তিনি দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানান।

এদিকে, বন্যার পানিতে জেলার কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান জানান, বন্যার পানিতে ১২৫ হেক্টর পাকা আমন ধান, ৯৫ হেক্টর রোপা আমন, ২২ হেক্টর বীজতলা এবং ২৫ হেক্টর শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান জানান, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় বিভিন্ন গ্রাম থেকেও পানি নামছে। তিনি বলেন, পানি আরও কমে এলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশে মেরামতের কাজ শুরু করা হবে এবং নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে এলে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে লস্করপুর ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। ওই সময় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।