ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা শিরিন আক্তার। তবে রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি নিজের পরিবার ও ছেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে হাইকোর্টে আপিলের রায় ঘোষণার পর ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চান্দিয়া গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে এসব কথা বলেন শিরিন আক্তার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিরীন আক্তার বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। অনেকে বলেছিল, আমরা নাটক করছি, রাফি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আজ আদালতের রায়ে প্রমাণ হয়েছে, রাফির মৃত্যু হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার আজ রায় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার পরিবার ও ছেলেদের নিয়ে শঙ্কিত। সরকারের কাছে আমি আমার ছেলেদের নিরাপত্তা চাই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নুসরাতের মৃত্যুর পর অনেকে দাবি করেছিলেন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তারা ‘নাটক’ করছেন। তবে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি এখন পরিষ্কার যে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। বিভিন্ন হুমকি সত্ত্বেও তারা ধৈর্য ধরে আছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন শিরিন আক্তার। ওই মামলায় পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ৩ এপ্রিল কারাগারে থাকা সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁর অনুগতরা নুসরাতকে হত্যার চক্রান্ত করেন এবং ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দেওয়ার সময় নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং সবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মৃত্যুবরণ করেন।