বান্দরবান জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনে দক্ষ, সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য কিংবা শাস্তিমূলক বদলির কর্মকর্তাদের বান্দরবানে পদায়ন করা উচিত নয়। একই সঙ্গে পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে বৈষম্যহীন উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে এনসিপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের এক সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, "বান্দরবান দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জেলা। এ জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে। শাস্তিমূলক বদলির অংশ হিসেবে কোনো কর্মকর্তা এখানে পদায়ন করা হলে তা জেলার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।"

পাহাড়ি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সঠিক নেতৃত্ব ও দক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, "এনসিপি বান্দরবানের সব জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়। কোনো সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই পাহাড়ের উন্নয়ন সম্ভব।"

সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার স্থানীয় জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, "বান্দরবানের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"

জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক পরিবর্তন এবং জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ জাতিসত্তার মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইফতেকারুল ইসলাম সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী, সদস্যসচিব প্রকৌশলী লূক চাকমাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দেন।