রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সম্পত্তি আত্মসাৎ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে বড় ভাই ফারুক শেখকে (৪৬) নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহতের ছোট ভাই মো. বারেক শেখ, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া এলাকার মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) এবং মো. রুবেল শেখ (৩০)।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ ঘরের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় ফারুক শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বারেক স্বীকার করেন যে ফারুকের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও বিরোধের জেরে তিনি বড় ভাইকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেন। এই কাজের জন্য দৌলতদিয়ার আলমগীর ও রুবেলকে ৩ হাজার টাকায় চুক্তি করে দুটি ধারালো দা কিনে তুলে দেন। পরে শনিবার দুপুরে আলমগীর ও রুবেল ঘুমন্ত ফারুককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পরে বারেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আলমগীর ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি দা, রক্তমাখা পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও ইন্ধন ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।