বিডিআর হাসপাতালের সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন ২০১০ সালের শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। আজ রোববার মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই সাক্ষ্য প্রদান করেন তিনি। কারাবন্দি জিয়াউলকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জবানবন্দিতে নিজাম উদ্দিন জানান, ২০১০ সালের ১৭ মে শরণখোলা থানার এক চৌকিদার তাঁকে ফোন করে জানান যে, বলেশ্বর নদের পশ্চিম তীরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, "লাশটি গলিত। লাশের পেট কাটা। মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। লাশের হাত–পা বাঁধা ছিল।" এছাড়া লাশের শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর তিনি এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। নিজাম উদ্দিনের জবানবন্দিতে বলা হয়, "ইকবাল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।" চৌকিদারের করা এজাহারের ভিত্তিতে ইকবাল একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং নিজেই তদন্তভার গ্রহণ করেন। ওই রাতে থানায় ফিরে মরদেহটি দেখে নিজাম উদ্দিন জানান, পচন ধরায় তিনি শুধু বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরদিন ময়নাতদন্তের পর অজ্ঞাত পরিচয় হওয়ায় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি দাফন করা হয়।

সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের চার-পাঁচ দিন পর খুলনার বিডিআর সেক্টর থেকে এক কর্নেল তাঁকে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চান। সেই কর্নেল জানান, একজন বিডিআর সদস্য থানায় আসবেন এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করতে অনুরোধ করেন।

অন্যদিকে, লাশ পাওয়ার দুই দিন পর এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন যে, মরদেহটি তাঁর ভাইয়ের। ওই ব্যক্তির দাবি, "দুই–তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে তাঁর ভাই অপহৃত হন। এ বিষয়ে তাঁরা কোটালীপাড়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন।"

পরবর্তীতে মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী ও চাচা থানায় এসে রক্ষিত পোশাক দেখে তাঁকে শনাক্ত করেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে লাশটি নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের জানানো হলে তাঁরা রাজি হন। নিজাম উদ্দিন উল্লেখ করেন, এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর তিনি রামপাল থানায় বদলি হয়ে যান। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে অবসরে রয়েছেন।