সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফিরেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পরিবার।

গাজী নজরুল ইসলামের নিকটাত্মীয় হাসানুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে জানান, ৭৯ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন এবং তার হৃদযন্ত্রে আগে থেকেই দুটি রিং পরানো রয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে তিনি বুকে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করায় তাকে দ্রুত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি তার শারীরিক পরীক্ষা ও ইসিজি করা হয়। রোববার তার এনজিওগ্রাম করা হলেও প্রতিবেদনটি এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

বর্তমানে চিকিৎসক মোহাম্মদ বদিউজ্জামানের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন গাজী নজরুল। তার পূর্বের হৃদরোগের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরবর্তীতে ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। তদন্ত শেষে গত ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দলীয় সূত্রে তখন জানানো হয়েছিল, "সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।