রংপুরে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

রোববার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "একটি পরিবারের চারজন মানুষকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতার একটি বড় দৃষ্টান্ত।"

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে সাইফুল হক উল্লেখ করেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যদি তা সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের ওপর সংঘটিত নৃশংস অপরাধ নয়; দেশে মাদক, কিশোর-তরুণ অপরাধ এবং সামাজিক সহিংসতার ভয়াবহ বিস্তারেরও একটি অশনি সংকেত।"

বিবৃতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেট তাদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যায়।"

সাইফুল হকের মতে, মাদক ব্যবসা ও এর বিস্তার রোধে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। ফলে অপরাধী চক্র শক্তিশালী হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।

রংপুরের এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রশাসনিক প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।"

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও মৌলিক দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মাদকের বিস্তার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান সাইফুল হক।