সরকারের বিনিয়োগসংক্রান্ত তিনটি সংস্থাকে একীভূত করে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)-কে মিলিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ফলে এখন থেকে বিনিয়োগসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম এই নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ কার্যকরের মাধ্যমে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ বিলুপ্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে বৃহস্পতিবার থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর তিন সংস্থার সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে এই কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি পরিচালনায় একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্যের একটি বোর্ড থাকবে, যেখানে চেয়ারম্যান প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথিপত্র, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। তিন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সমন্বিত করাই সরকারের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। এতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকে আরও সহজে ও নির্ভরযোগ্য প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন বলে আশা করছে সরকার।