সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালককে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুর রহমান। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে হয়রানির উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসেছেন। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন এবং এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
ওবায়দুরের ভাষ্যমতে, গত ১৯ জুন তার ভাগ্নির কাছ থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তিনি। পরদিন এমপির হোস্টেলে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বললে গাজী নজরুল বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর। ওই সময় তাকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থ না নিলেও ভাগ্নির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গাজী নজরুল ও তার ভাগ্নির ঘনিষ্ঠতা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কপি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাদের আপত্তিকর অবস্থানের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং ওই রাতেই ভাগ্নিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে অবস্থান করেন। পরদিন ঢাকায় ফিরে খিলক্ষেত হয়ে বাসায় পৌঁছানোর পর তার ওপর হামলা চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পর মাসুম ও আমিনুর নামে দুই ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে মাথায় লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর রহমান বলেন, "এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।" পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে নেয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও তারা আদালত থেকে জামিন পান।
তিনি অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্ত আসামিসহ আরও কয়েকজন তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ২ আগস্ট তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ওবায়দুর রহমান বলেন, "তিনি যদি অপরাধী হন, তবে আইনের আওতায় আনা হোক। আর যদি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
প্রাণনাশের হুমকির মুখে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার কাছে চিকিৎসা নথি, মামলার কাগজপত্র এবং গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।