মন্ত্রিসভায় রদবদলের মাধ্যমে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে শপথ পড়ান। টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনি এই দায়িত্ব লাভ করেন।
এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
সিলেটের ওসমানীনগরে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবিরের বেড়ে ওঠা ও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাজ্যে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিএ (অনার্স), লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই) থেকে রাজনীতিতে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স এবং লিডস ল স্কুল থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ে কৌশলগত সহকারী এবং লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ঋষি সুনাক এবং লিজ ট্রাসের সময়ে যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কপ২৬ (COP26) টিম, যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
বিএনপির আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ রক্ষা ও প্রতিনিধিত্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তাকে পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। আগস্টের শুরুতে সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুলকরিম আল-খুরাইজির ঢাকা সফরেও তিনি বৈঠকে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে হবে তাকে। বিশেষ করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।