ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পাচারের সময় বাজারের ব্যাগে রাখা দুটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করেছে বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা বানর দুটিকে সিলেটের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউনিটের সদস্যরা জানতে পারেন যে, হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে বানর দুটি পাচারের প্রস্তুতি চলছে। এরপর বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন পরিদর্শক অসীম মল্লিকের নেতৃত্বে একটি দল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পাচারকারীরা বানর দুটি একটি বাজারের ব্যাগে ভরে বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরের সামনে ফেলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ব্যাগটি উদ্ধার করেন অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা। ব্যাগ খুলে এর ভেতর থেকে দুটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়।

লজ্জাবতী বানরের বৈজ্ঞানিক নাম Nycticebus bengalensis। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় এ প্রজাতিকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন পরিদর্শক অসীম মল্লিক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ভারতীয় ব্যাগের মধ্যে লজ্জাবতী বানরগুলো ছিল। এই বানরগুলো বেশ কিছুদিন আগেই ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসার কথা ছিল। তথ্যদাতার মাধ্যমে বিষয়টি নজরদারিতে রাখছিলেন। শুক্রবার সকালে বানরগুলো পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। প্রথমে ময়মনসিংহ শহরে বানরগুলো আসার কথা থাকলেও পরে হালুয়াঘাট থেকে শেরপুর হয়ে পাচার হওয়ার খবর পেয়ে হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়।"

পাচারকারীদের আটক করা সম্ভব হলে বানরগুলো কোথায় পাচার করা হচ্ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যেত বলে মন্তব্য করেন বন পরিদর্শক অসীম মল্লিক। তিনি আরও বলেন, "হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এ ধরনের পাচারের ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন্য প্রাণী ধরা, পাচার ও কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। উদ্ধার করা বানর দুটিকে সিলেটের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে, কারণ, সেখানে এ প্রজাতির বানরের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রয়েছে।"