ফেসবুকে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, সিমকার্ড এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৪১) এবং একই ইউনিয়নের চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকার মো. রকিবুল হাসান নয়ন (৩৬)।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, চাঁদপুর সদর মডেল থানায় করা সাধারণ ডায়েরি এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে জেলা পুলিশ। একপর্যায়ে চক্রটির সন্ধান পায় ডিবি। এরপর এসআই মো. আনছার উল্লাহ ও মো. জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে ডিবির একটি দল কালিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। অভিযানে এলআইসি শাখার এএসআই মো. ইলিয়াছ শাহ ও ডিবির এএসআই জহির উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানের প্রথম ধাপে ২০ আগস্ট রাতে কালিয়া থানার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এলাকায় হাবিবুর রহমানকে এবং পরবর্তীতে একই রাতে চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রকিবুল হাসান নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনসহ পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, "অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তি বা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে লেনদেনের আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"