নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পূর্বশত্রুতা ও মামলা প্রত্যাহার না করার জেরে জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) নামে এক ব্যবসায়ী ও ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল বন্দর থানার ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মূলহোতা শেখ সিফাত (৩২), জুমান ওরফে হোয়াইট জুমান (২৯), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সবার বাড়ি বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে জাহিদের বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই জাহিদের অটোরিকশার গ্যারেজে ঢুকে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় জাহিদ বাদী হয়ে মামলা করলে তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সালেহনগর এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন জাহিদ। আসামিরা ধারালো চাপাতি, সুইচ গিয়ার চাকু ও লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জাহিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে পালিয়ে যায়। উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার বন্দর থানায় মামলা দায়েরের পরপরই বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেলের নির্দেশনায় বন্দর থানার একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছ্যানদা, দুটি সুইচগিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত একটি স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি ও চারটি এসএস লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে।