বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে।

বিকেল থেকেই বঙ্গভবনের প্রবেশপথ এবং মতিঝিল-গুলিস্তান সংলগ্ন এলাকায় শত শত মানুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার না থাকলেও, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন।

ঠাকুরগাঁও থেকে আসা দর্শনার্থী মাহবুবুর রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "উত্তরবঙ্গের কৃতী সন্তান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসীন হচ্ছেন দেখে এই আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে তারা বঙ্গভবনের সামনে এসেছেন।"

আরেক দর্শনার্থী জালাল সরকার বলেন, "নতুন রাষ্ট্রপ্রধান দেশের সর্বস্তরের মানুষের কথা মাথায় রেখে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন, এমনটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।"

শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বঙ্গভবন ও সংলগ্ন এলাকায় ত্রিস্তরীয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রবেশপথ ও কৌশলগত মোড়গুলোতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংলগ্ন সড়কগুলোতে সাধারণ যান চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৩টি ভোটের মধ্যে ২৫৫টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ৮৮টি ভোট পেয়েছেন।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।